June 21, 2024, 6:12 am

IMG 20190612 021444

সু-শাসন কী? বাংলাদেশে ক‌ি সু শাসন আছে, থাকলে কতটুকু আছে?

Spread the love

মো: হাসিব উদ্দীন চঞ্চল

সম্পাদক, বিডি সোশ্যাল নিউজ

সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী -পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে। এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে। আর্থ-রাজনৈতিক অগ্রগতিকে প্রাধান্য দেয়। বাংলাদেশে এখনও পুঁজিবাদের সুষ্ঠ বিকাশ ঘটেনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, রাজনীতির নিত্য সঙ্গী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতির হার অত্যন্ত উচ্চ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক  ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নয়ন হলেও বাংলাদেশে সুশাসনের মাত্রা সন্তোষজনক নয়।

সাধারণত শাসন হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও তা বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া। শাসনের ধারণা কোন নতুন বিষয় নয় বরং এটা মানব সভ্যতার মতোই পুরাতন। শাসন ব্যবস্থার অর্থ ও মাত্রা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। সুশাসন শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন : আন্তর্জাতিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন, যৌথ শাসন ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমানে সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা প্রদানকারী হিসেবে দেখা হয়।

সুশাসন বলতে যে শুধু আইনের শাসন বা আইন শৃঙ্খলা ঠিক থাকলেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় না। সুশাসন বিষয়টিকে সংজ্ঞায়িত করতে হলে শাসন বলতে কি বুঝায় তা জানা প্রয়োজন। শাসন বলতে বুঝায় ক্ষমতাকে কিভাবে প্রয়োগ করা হয়, কিভাবে জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রতি সাড়া প্রদান করা হয় কিংবা কিভাবে একটি জনসমষ্টি শাসিত ও পরিচালিত হয়। সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের উন্নয়নের পাশাপাশী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে  কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ। সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে:  রাজনৈতিক সুশাসন,  সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন  এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।

 

বাংলাদেশে কি সুশাসন আছে এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে আমি বলবো, বাংলাদেশে সুশাসন সর্বক্ষেত্রে এখনও নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। অতিমাত্রায় আমলাতান্ত্রিকতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের কাজকর্মের জবাবদিহি করে না। রাজনৈতিক নেতারা কার্যত জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। তাছাড়া নিম্নমানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। জবাবদিহিতার অভাব বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান সমস্যা।

অন্যদিকে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। ক্ষেত্র তৈরি হয় পদে পদে ঘুষ দেবার ও নেবার সংস্কৃতি।  প্রশাসনের অনেক জটিল ও কঠিন কাজ আমলাদের  কাছে বাঁ হাতের কাজ। কারণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাঁরা অনেক অভিজ্ঞ। এই অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আমলারা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রভাবিত করতে পারে। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এবং স্বচ্ছ প্রশাসন ব্যবস্থা কায়েম হলে আমলাদের ক্ষমতা হ্রাস পাবার আশঙ্কা থাকে। প্রশাসনিক দলীয়করণ এ অবস্থাকে আরো খারাপ করে । সকল রাজনৈতিক দলই প্রশাসনকে নিজেদের আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে থাকে। এর ফল হয় যোগ্য লোকের জায়গায় অযোগ্য লোকের স্থান ও নিয়োগ। আর এ কারণে রাষ্ট্র একদিকে মেধাবী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে তা দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে। বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পুরনো, অপর্যাপ্ত ও অপ্রাসঙ্গিক বহু আইন একটি বড় বাধা। জনসাধারণের পক্ষে এ সকল আইনের সঠিক ব্যাখ্যা ও যথার্থ অর্থ নিরূপণ করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণে আমলারা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনাচার বৃদ্ধির সুযোগ থাকে, যা সুশাসনের অন্তরায় সৃষ্টি করে। রাজনীতিবিদ ও আমলারা যদি দুর্নীতি এবং  স্বজনপ্রীতি করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব ব্যাপার।

বাংলাদেশে সুশাসন সর্বক্ষেত্রে এখনও নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। অতিমাত্রায় আমলাতান্ত্রিকতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের কাজকর্মের জবাবদিহি করে না। রাজনৈতিক নেতারা কার্যত জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। তাছাড়া নিম্নমানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করছে

সম্প্রতি আমরা দেখেছি পাবনার রূপপুর পারমাণবকি বিদুৎকন্দ্রেরে আওতাধীন গ্রনি সিটি প্রকল্পরে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে উঠানোয় অনয়িমরে ঘটনায় দৃশ্য ব্যাপক আলোচনা ঝড় উঠছে। সেখানে একটা বালশিরে দাম দখোনো হয়ছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর টাঙ্গাইলরে কালহিাতী উপজলোয় কৃষক পাকা ধানরে ক্ষেতে মনরে দুঃখে আগুন দিয়েছেলিনে। তাঁর দুঃখরে কারণ, ধানরে মণ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। প্রায় ১০ মণ ধান লাগে একটা বালশি কিনতে।

অপরদিকে একজন র্গ্রামন্টেস শ্রমকিকে তার নন্যুতম মজুরীর জন্য জীবন দিতে হয়। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায় ।

সুশাসনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে সুশাসনের প্রয়োজনীয় উপাদান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারও এ প্রক্রিয়া থেকে অনেক দূরে রয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগই চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠান। তাই সুশাসনের জন্য স্বাধীন বিচার বিভাগ যেমন খুবই জরুরি তেমনি এর বাস্তবায়ন করাও খুবই প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে সংবিধানে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থকলেও বাংলাদেশে নিম্ন আদালত এখনও পুরোপুরি স্বাধীন হয়নি। দেশী-বিদেশী অনেক গবেষক দাবি করেন, বাংলাদেশ সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হল দুর্নীতি। সুশাসনের পূর্ব শর্ত হল সরকারের সকল কার্যকলাপ থেকে দুর্নীতি নিমূল করা। ২০০৬ সালে স্বাধীনতার ৩৫ বছর পরে একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হলেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতন বাংলাদেশে একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মুলত বাংলাদেশে মানবাধিকার মারাক্তকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা চিকিৎসা ও বাসস্থান ইত্যাদির যোগান দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা পুরোপুরিভাবে পূরন হচ্ছে না।  জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের অভাবে বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত সুশাসন অর্জন করতে পারছে না। বাংলাদেশের জনগণ ব্যাপক হারে ভোট দিলেও তা ‘নিছক অংশগ্রহণকে প্রকাশ করছে। নিছক অংশগ্রহণ বলতে বোঝানো হচ্ছে জনগণ শুধু প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেয় কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধির উপর তাদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তারা কেবল ভোট দেয়, সরকারের নীতি নির্ধারণে জনগণের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন ধরণের সমঝোতা না হওয়াও সুশান প্রতিষ্ঠায় একটি বড় বাধা।

 

আবার শুধু আইনের শাসন কে সু শাসন বলবো তা যেমন নই তেমনি শুধু মাত্র উন্নয়নের কার্যক্রম দেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় হয়েছে তা বল যাবে না। একটি দেশের সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল।  দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো এবং অংশগ্রহণ। এই সবগুলো বাস্তবায়ন করাই হলো সুশাসন।

 

 

 

 

 


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category