June 22, 2024, 11:57 am

জলাভূমি, সবুজের অভাব আর ভবনে উত্তপ্ত ঢাকা

জলাভূমি, সবুজের অভাব আর অতিরিক্ত ভবনের কারনে রেকর্ড তাপমাত্রা ঢাকা

Spread the love

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ঢাকাসহ সারাদেশ৷ প্রতিদিনই তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়াচ্ছে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন ঢাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণতার পাশাপাশি স্থানীয় অনেক কারণও আছে৷

বিশেষ করে ঢাকা শহরের সবুজ মাঠ, খোলা জায়গা ও পুকুর খাল ধ্বংস করায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি অনুভূত হচ্ছে৷ ভবন তৈরির নির্মাণ সামগ্রী এবং কাঠামোও তাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা৷

রোববার বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঈশ্বরদীতে ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াম চুয়াডাঙ্গায়৷

গত দুইদিন ধরে ঢাকা তাপমাত্রার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে, যা গত ছয় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ৷ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে৷ এই তাপপ্রবাহ আরো তিন চারদিন অব্যাহত থাকবে৷ রাতে তাপ আরো বাড়তে পারে৷ দেশে কোথাও কোনো বৃষ্টিপাত নাই৷ তবে কোথায় কোথাও আকাশ হালকা মেঘাচ্ছন্ন৷

ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তো আছেই কিন্তু ঢাকায় বেশি গরম লাগার স্থানীয় কারণ আছে৷ একটি নগরে স্থাপনা থাকবেই৷ তার সঙ্গে সবুজ ২৫ ভাগ এবং ওয়াটার বডি ১৫ ভাগ মোট ৪০ ভাগ জায়গা ছেড়ে দিতে হবে৷ আমরা ২০২০ সালে এক গবেষণায় দেখেছি ঢাকার মোট ভূমির শতকরা ৮২ ভাগ কংক্রিটে আচ্ছাদিত৷ ফলে এখানে তাপমাত্রা কমানো যায় না৷ সবুজ এবং ওয়াটারবডি থাকলে তিন-চার ডিগ্রি তাপ কমে যেত৷”

কিন্তু তাপ কমার বদলে ঢাকা উল্টো তাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে৷ তিনি বলেন,  ‘‘বাংলাদেশের পরিবেশ বিবেচনা না করে এয়ার টাইট উঁচু উঁচু ভবন তৈরি হচ্ছে৷ ভবনগুলো কাঁচে আচ্ছাদিত৷ এগুলো উল্টো তাপ উৎপাদন করে৷ আবার যেসব নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয় তা-ও তাপ উৎপাদন করে৷”

এর আশু কোনা সমাধানও নেই বলে মনে করেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ৷ তিনি মনে করেন এখন থেকে ভূমি ব্যবহারের নীতিমালা ও বিল্ডিং কোড ঠিক করে তা মেনে চললে ২০-৩০ বছরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ বলেন, ‘‘গ্রাম এবং শহরের তাপমাত্রায় দুই-তিন ডিগ্রি পার্থক্য থাকে৷ কারণ গ্রামে গাছপালা আছে, জলাশয় আছে৷ ঢাকা শহরে অপরিকিল্পিত নগরায়ন হয়েছে৷ ফলে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হয়৷ আর পরিবেশ দূষণ তো আছেই৷ নগর পরিকল্পনায় যদি পর্যাপ্ত গাছপালা, জলাশয় যোগ করা যায়৷ পরিবেশের উপযোগী করে যদি ভবন নির্মাণ করা যায় তাহলে তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রি পর্যন্ত কমানো যায়৷”

আবহাওয়ার পরিবর্তন

বাংলাদেশে সার্বিকভাবে তাপমাত্রায় চলতি বছরের পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে আবহাওয়াগত কারণও৷ ড. তৌহিদা রশীদ বলেন, ‘‘প্রশান্ত মহামাগরের শীতল রাত থেকে এখন আমরা উষ্ণ রাতে প্রবেশ করছি৷ এটা কয়েক বছর পরপর ফিরে আসে৷ আমরা পুরোপুরি উষ্ণ রাতে প্রবেশ করি জুনের দিকে৷ তখন এই অঞ্চলে এশিয়ার পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি হয় না৷ বৃষ্টি হয় ব্রাজিল, পেরু, উত্তর অ্যামেরিকা ওই অঞ্চলে৷ ফলে আমাদের কয়েক বছর খরা ও উষ্ণতা মোকাবিলা করতে হবে৷”

তার সঙ্গে সমূদ্র পৃষ্ঠের উষ্ণতাও এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান আবহাওয়া বিজ্ঞানের এই অধ্যাপক৷

সার্বিকভাবে এই তাপপ্রবাহ আরো তিন-চারদিন থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর৷ অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানা সুলতানা বলেন, “গত ৫ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে এই তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়৷ এর কারণ, এপ্রিল-মার্চ মাসে সূর্য মাথার উপরে আসে তখন পাকিস্তান, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বাংলাদেশ এই এলাকায় সূর্য খাড়াভাবে কিরণ দেয়৷ ফলে একটি গরমের প্রবাহ তৈরি হয়৷ এই প্রবাহ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে যায়৷ পকিস্তান থেকে প্রবাহ আসে৷”

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ঢাকায় জনবসতি, কল কারখানা, গাড়ি বেশি, গাছপালা নেই৷ এ কারণে এখানে গরম বেশি অনুভূত হয়৷”

সুত্র: ডয়চে ভেলে


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category